Election Manifestos

Whilst many of us will be planning our staycations this Summer, recess provides a crucial opportunity for..

Filter by Party Filter by Election Filter by year

নির্বাচনী ইশতেহার ২০০৮ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি

“রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবক্ষয় ও নৈরাজ্যসহ দেশের এক সার্বিক ও গভীর সংকটের প্রেক্ষাপটে এবং প্রায় দুই বছর একটি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দেশ পরিচালিত হওয়ার পর, অবশেষে বহু প্রত্যাশিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

নিকট অতীতে ৯০-এর দশকের শুরুতে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশে গণতন্ত্র বিকাশের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী তিনটি সরকারের গণবিরোধী কার্যকলাপে এই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়। প্রথমে বিএনপির গণবিরোধী শাসন, তারপরে আওয়ামী লীগের অপশাসন এবং সর্বশেষ বিএনপি-জামাত চক্রের দুঃশাসন দেশকে এক দ্বি-দলীয় মেরূকরণভিত্তিক লুটপাটতন্ত্র, জনজীবনে অসহনীয় ও ক্রমবর্ধমান সংকট, জাতীয় স্বার্থের মূলে ক্রমাগত কুঠারাঘাত, সাম্রাজ্যবাদ নির্ভরতা, সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার দুষ্টচক্রের মধ্যে দেশ ও জনগণকে আটকে ফেলে।

এই সময়কালে বিএনপির প্রত্যক্ষ মদদ ও সহযোগিতায় এবং আওয়ামী লীগের আপসকামিতার ফলে জামাত রাজাকারসহ মৌলবাদী উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি দ্রুত বিস্তার লাভ করে। বোমাবাজিসহ সশস্ত্র তৎপরতা চালাতে সারাদেশে সশস্ত্র জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এবং সরকার ও রাষ্ট্র কাঠামোতে গভীর অনুপ্রবেশ ঘটাতে তারা সক্ষম হয়।

বিএনপি-জামাত জোটের ৫ বছরব্যাপী দুঃশাসন দেশকে উপহার দিয়েছিল সীমাহীন লুটপাট, কুৎসিত দলীয়করণ, জনজীবনে অসহনীয় দুর্ভোগ, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প, পরিবেশ বিপর্যয়, বিচার ব্যবস্থার সংকট, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং সর্বোপরি রাজাকার সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠীর তাণ্ডব। এছাড়াও এ সময়কালে সাম্রাজ্যবাদী বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ আমাদের দেশে আরো নির্লজ্জভাবে বৃদ্ধি পায়। ‘কালা জাহাঙ্গীর’ ‘বিউটি আপা’ প্রমুখ মার্কিন কূটনীতিকরা ব্রিটিশ আমলের ‘বড় লাটে’র মতো আচরণ করতে ও শাসকদলসহ বড় বুর্জোয়া দলগুলোর কাছ থেকে সে রকম ‘দাসসুলভ আচরণ’ পেতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। অবশ্য শোষিত-বঞ্চিত-বিক্ষুব্ধ জনগণ এসব দুঃশাসন নীরবে মেনে নেয়নি। শামসুন্নাহার হল, কানসাট, ফুলবাড়ী, শনির আখড়ায় এবং খুলনার পাটকল শ্রমিক, নারায়ণগঞ্জ ও আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিক, গ্রামাঞ্চলের ক্ষেতমজুররা নানা ধরনের জঙ্গি সংগ্রামে এ সময় অবতীর্ণ হয়েছে। গ্যাসসহ জাতীয় সম্পদ ও চট্টগ্রাম, মংলা বন্দর রক্ষায় বড় বড় লংমার্চসহ ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টিসহ বামপন্থিরা এসব সংগ্রামের অগ্রভাগে থেকেছে। বুকের রক্ত ঢেলে বামপন্থিরা এ সময় বিএনপি-জামাত জোট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে যুগপৎভাবে সংগ্রাম পরিচালনা করেছে।”

View or download PDF
Go back

You might also like